ঢাকা, ২৮ ডিসেম্বর: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মেরুকরণ তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নতুন নির্বাচনী জোটে যোগদানের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠনের স্বার্থেই তাদের এই সিদ্ধান্ত।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বক্তব্য দেন।
নাহিদ ইসলাম জানান, এনসিপি প্রথম থেকেই এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি চালাচ্ছিল। সে অনুযায়ী মনোনয়ন আহ্বান প্রক্রিয়া ও সাংগঠনিক পরিকল্পনা শুরু হয়, এমনকি সংস্কার প্রশ্নে আরও দুটি দলের সঙ্গে সমঝোতাও হয়।
তবে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ড দেশের নির্বাচনী প্রেক্ষাপটকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “বর্তমান পরিস্থিতিতে ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনরুত্থান রোধ ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষার স্বার্থে সমমনা দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, জামায়াতসহ সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে এবং বৃহত্তর ঐক্যের প্ল্যাটফর্ম থেকে এনসিপি এবার নির্বাচনে অংশ নেবে।
এনসিপি সূত্র জানায়, সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, আজ বিকালে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটের ঘোষণা দেন, যেখানে এনসিপি অন্যতম শরিক দল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এনসিপি নেতাদের দাবি, হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার প্রত্যাশাই রাজনৈতিক এই নতুন বিন্যাসের মূল প্রেরণা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :